গবেষণার মডেল অর্গানিজম জেব্রাফিশের খোঁজে ফ্রান্সের গবেষক দলের বাকৃবিতে ভ্রমণ

প্রকৃতিতে লুকিয়ে আছে নানা রহস্য। সেই রহস্য উদ্‌ঘাটনে গবেষণার মাধ্যমে নিজের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে হয় বহুদূর কখনো মাঠে, কখনো জলে, কখনো সমুদ্র পেরিয়ে অচেনা কোনো দেশে। এই গবেষণার তাগিদেই সুদূর ফ্রান্স থেকে একদল গবেষক ছুটে এসেছেন প্রকৃতি কন্যা খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রাঙ্গণে । উদ্দেশ্য একটাই প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে জেব্রাফিশ সংগ্রহ। গায়ে ডোরা কাটা এই ছোট্ট মাছটিকেই তাঁরা বেছে নিয়েছেন তাদের গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে।

গবেষক দলে রয়েছেন ফ্রান্সের লরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. থমাস লেকক, অ্যানিমেল এক্সপেরিমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ার ড. ইয়ানিক লেডোর এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী ক্যাটেরিনা সামিওটাকি। বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরেই তারা এই সফরে এসেছেন।

অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন,’এটি তাদের প্রথম সফর নয়। ২০২২ সালেও তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেবার প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ১২০০টি জেব্রাফিশ সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করেছিলেন। গবেষণায় সাফল্য এলেও একসময় বিপত্তি দেখা দেয়। সেটি হলো চতুর্থ প্রজন্মে এসে মাছেরা নিজেদের মধ্যে ইনব্রিডিং শুরু করে। নমুনা কম থাকাই ছিল এর মূল কারণ। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই আবার এসেছেন তারা।

গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে জেব্রাফিশ এনে তা মানুষের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া অর্থাৎ গৃহপালিতকরণ বা ডমেস্টিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া।’ 

এত প্রজাতির মাছের মধ্যে জেব্রাফিশই কেন সে প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, ‘জেব্রাফিশের জীবনচক্র ও প্রজনন সময় খুবই কম। তাই এর মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।সাধারণত গবেষণার ক্ষেত্রে জেব্রাফিশকে মডেল অর্গানিজম হিসেবে ধরা হয়।’

জুনের ১১ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ এই সফরে গবেষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ গবেষণা কমপ্লেক্সের জলাশয় থেকে শুরু করে ভবখালির জলাশয় পর্যন্ত নানা জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন প্রায় তিন হাজার জেব্রাফিশ। মাছ সংগ্রহের পাশাপাশি পানি ও পলির (সেডিমেন্ট) নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। মেটাজেনমিক্স ও এনভায়রনমেন্টাল ডিএনএ (eDNA) বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা চলছে, মাছের চারপাশের পরিবেশ তাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।

সফরে গবেষকেরা বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারেও অংশ নেন।

ড. থমাস লেকক বলেন, ‘আমরা এই মাছটিকে মডেল প্রজাতি হিসেবে ব্যবহার করছি মূলত মাছের গৃহপালিতকরণ এবং জলজ চাষের স্থায়িত্ব নিয়ে কাজ করার জন্য। শুধু বিজ্ঞান নয়, শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণার সুযোগও আমরা তৈরি করতে চাই। এই সহযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার ফান্ডিং এবং উন্নত গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।’

বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর পিএইচডি শিক্ষার্থী ক্যাটেরিনা সামিওটাকির। তার অভিজ্ঞতা কেমন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ এবং মানুষের ব্যবহার খুবই দারুণ। প্রথমে ভেতরে একটা সংশয় কাজ করলেও এ দেশের মানুষের আন্তরিক ব্যবহার আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে।’

Details:

https://dailygonokantho.com/article/gbeshnar-mdel-organijm-jebrafiser-khonnje-franser-gbeshk-dler-bakrribite-vrmn: গবেষণার মডেল অর্গানিজম জেব্রাফিশের খোঁজে ফ্রান্সের গবেষক দলের বাকৃবিতে ভ্রমণ

Similar Posts